এম নূরউদ্দিন আহমেদ : নরসিংদীর রায়পুরায় মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী দিদির জন্য হুইল চেয়ার চাইতে খালি গায়ে ইউএনও কার্যালয়ে ছুটে আসে ছোট্ট শিশু তুলি পাল। সঙ্গে ছিল তার ছোট ভাই কৃষ্ণ। তাদের অসহায়ত্বের কথা শুনে শুধু হুইল চেয়ারই নয়, দুই শিশুর জন্য নতুন জামা-কাপড়েরও ব্যবস্থা করেন ইউএনও।
জানা গেছে, শিশু তুলি পাল কারও কাছে শুনেছিল ইউএনও অফিসে হুইল চেয়ার পাওয়া যায়। সেই কথা শুনে কোনো দ্বিধা না করে খালি গায়ে হন্তদন্ত হয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চলে আসে সে। উদ্দেশ্য একটাই হাঁটতে না পারা অসুস্থ দিদির জন্য একটি হুইল চেয়ার নেওয়া।
ইউএনও মাসুদ রানা বলেন, সোমবার (১৭আগষ্ট) সকালে “ছোট্ট শিশু তুলি ও তার ছোট ভাই কৃষ্ণকে নিয়ে এসে বলল, ‘আমার দিদির জন্য গাড়ি দেন।’ কথোপকথনে জানতে পারি, তাদের মা নেই এবং তার দিদি হাঁটতে পারে না। বিষয়টি জানার পর তাদের দিদির জন্য একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করি। পাশাপাশি তুলি ও তার সঙ্গে আসা ছোট বালক কৃষ্ণের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনে দিই।”
তিনি আরও বলেন, “খালি গায়ে আসা শিশুরা নতুন জামা পরে যখন দিদির জন্য হুইল চেয়ার নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিল, তখন তাদের মুখের আনন্দ সত্যিই ভোলার মতো নয়।” তুলিদের বাড়ি রায়পুরা পৌরসভার হরিপুর এলাকায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্টাফরা রিকশায় করে শিশু তুলি, কৃষ্ণ ও হুইল চেয়ারটি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। নতুন জামা পেয়ে এবং অসুস্থ দিদির জন্য হুইল চেয়ার হাতে পেয়ে ছোট্ট তুলির মুখে ফুটে ওঠে মায়াভরা এক হাসি। সেই হাসিতে ছিল স্বস্তি, আনন্দ আর দিদিকে একটু স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর স্বপ্ন। একজন অসহায় শিশুর ছোট্ট আবদারে সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন রায়পুরার মানবিক ইউএনও মাসুদ রানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করছেন অনেকে।
ইউএনও মাসুদ রানা আরও বলেন, তুলির সেই মায়াভরা হাসি হয়তো ভোলা যাবে না কোনোদিন। ভালো থাকুক তুলি, ভালো থাকুক কৃষ্ণ। ভালো থাকুক তাদের অসুস্থ দিদি। তুলিদের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।
এননস/এমনআ