নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অনিয়ম, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ, প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা গোপন বা অতিরঞ্জিত করে বরাদ্দ গ্রহণ এবং বিতরণে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।

উক্ত বিষয়ে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষিপুর ৫০নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ তুলেন বক্তারা। এসময় তারা জানান, অনেক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে না। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের হাতে নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণের কাছাকাছি খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বরাদ্দ ও বিতরণের হিসাবেও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা জানানা, বিশেষ করে লক্ষিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোকুল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মনোহরাবাদ (খামার) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইদুল আযহার পর হইতে অদ্যাবধি পর্যন্ত শুধু শিক্ষার্থীদের হাতে রুটি তুলে দেয়া হচ্ছে। যেখানে রুটির সাথে কলা, ডিম ও দুধও দেয়ার কথা রয়েছে।

রাধানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো.গোলাপ মিয়া জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে নানা অনিয়মের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর তদারকির অভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে।

লক্ষিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজা আক্তার জানান, আমাদের স্কুলে কোরবানি ঈদের পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু রুটি আসে, কলা ডিম কিংবা দুধ এগুলো প্রতিনিয়ত দিচ্ছেনা। তন্মধ্যে গত ১৬ এবং ২৩ জুন কোন কিছুই দেয়নি তারা। এগুলো আমি খাতায় লিখে রেখেছি। ফিডিংয়ের সাব ডিলার সাত্তার, কাজল ও সোহাগ স্কুলগুলোতে কেন খাবার নিয়মিত দিচ্ছেনা প্রশ্ন করলে প্রধান শিক্ষক জানান, আমি সাব ডিলারদের প্রশ্ন করেছি উনারা জবাবে বলেছেন তারা নাকি বিল পাচ্ছেননা।

রায়পুরা উপজেলায় ফিডিংয়ের মূল ডিলার আওলাদ মোল্লাকে এবিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন জানান, বিষয়টি শুনেছি, আগামীকাল চালান নিয়া আসার জন্য বলছি। চালান দেখে যাচাই-বাছাই পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া আছে, যেদিন যে খাবার দিবে সেটা লিখে রাখার জন্য এবং ঐখাবের বিল সই করার জন্য। যদি অনিয়ম বা কোনপ্রকার দূর্নীতি ধরা পড়ে থাহলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অনিয়ম উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
[video width="1920" height="1080" mp4="https://narsingdirnotunshomoy.com/wp-content/uploads/2026/06/20260628_121506.mp4"][/video]
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, রাধানগর ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মো. গোলাপ মিয়া, ৭নং ওয়ার্ডে সভাপতি মো. চান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. নুর মোহাম্মদ, রাধানগর ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. মামুন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. মোরাদ হোসেন শিবলু, প্রচার সম্পাদক ডাঃ মোঃ হোসেন আলী, ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসমাইল মিয়া, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রমজান আলী, রাধানগর ইউনিয়ন বিএনপির মহিলার দলের সভাপতি মোছাঃ জিমা আক্তার, মোঃ কাজল মিয়া, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও বিএনপিনেতা হাজী মোঃ আবু কাউছার প্রমূখ।