
শাহরিয়ার ইমন, নরসিংদী : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বপদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গেলে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাও ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকে আয়োজিত মানববন্ধনে এলাকার নাগরিক সমাজ, অভিভাবক এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আয়োজকদের অভিযোগ, আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়া ও তার অনুসারীরা মানববন্ধনে বাধা দেন। এর আগে বিদ্যালয় মাঠে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে নারীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়া অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। তবে আদালতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা। তবুও তিনি এখনো দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাহমিনা রেজা মৌসুমী বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল-স্লোগান করিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরজাহান খানম ইতি বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে টেকেনি। তিনি দাবি করেন, অধ্যক্ষের দায়িত্বকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল প্রায় ৯৯ শতাংশ ছিল, যা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মানববন্ধন চলাকালে হামলা ও ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয় বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান। এ ঘটনায় রায়পুরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোস্তফা খান, এম নুরউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অজয় সাহা সহ সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সংবাদকর্মীদের কাজে বাধা প্রদান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

খবর পেয়ে রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মানববন্ধন আয়োজকরা রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
এননস/এমনআ/রায়
Leave a Reply