
এম নূরউদ্দিন আহমেদ : বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষ্যে নরসিংদীর রায়পুরায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বাঙালি জাতীর সার্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ বটতলার এই মেলায় উপজেলার সকল বয়সী মানুষের এক চিরায়ত ঐতিহ্য। আনুমানিক একশো বছরেরও বেশি সময় যাবত রায়পুরা পৌর শহরের বটতলী এলাকায় হয়ে আসছে এ মেলাটি। সনাতনী পুঞ্জ অনুযায়ী পহেলা বৈশাখ এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে দিনব্যাপী বিশালাকৃতির এক বটগাছের ছায়াতলে জমে উঠেছে এ মেলা। মেলায় রয়েছে হরেক রকমের গ্রামীণ-বৈশাখী পণ্য, এগুলোর পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। নানা রকমের বাঁশি, একতারা, ঢোল, মাটির তৈরী পুতুল, বিভিন্ন পশু পাখির আদলে তৈরী ছোটদের খেলনা, জিলাপি, নিমকী, মুড়ি ভাজা ইত্যাদি। এগুলো স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ক্রেতাদের কিনতেও দেখা যায়। পাশাপাশি ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা শিল্পীদের কাছ থেকে রং তুলির আঁচরে নিজেদের গালে এবং হাতে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ ‘পহেলা বৈশাখ’ ‘শুভ নববর্ষ ১৪৩২’ সহ মেলা সংশ্লিষ্ট নানান কথা লিখছেন। বটতলার পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গা মন্দির, কালি মন্দির ও রাধা কৃষ্ণ মন্দির। মেলার এই দিনে মন্দিরের ভক্তবৃন্দরা সৃষ্টিকর্তার স্মরণে প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা আর্চনা করেন।
মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক রঞ্জিত বর্মণ বলেন, পূর্ব পুরুষদের আমল থেকে এখানে মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। গণেষ পূজার মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মেলাকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষনিক মেলা আয়োজকদের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারী রাখা হচ্ছে। রায়পুরা থানা হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ বর্মণ বলেন, প্রাচীনকাল থেকে রায়পুরার এই বটতলীতে ঐতিহ্যবাহী মেলাটি হয়ে আসছে। মেলায় ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও আসছেন। আগামীতে আরও সুন্দর করার প্রচেষ্টা রয়েছে। কেন্দ্রীয় মিলন মন্দিরের নবনির্বাচিত সভাপতি বাবু সবুজ নন্দি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলার আয়োজন করা হয়েছে, মেলার পরিবেশ খুবই মনমুগ্ধকর, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাচ্ছন্দে মেলা পরিদর্শন করছেন।
এসময় মেলা আয়োজক কমিটির লোকজন মন্দিরগুলোর আরও উন্নয়নের জন্য প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।
এন’নস/এমনআ
সুন্দর প্রতিবেদন