
রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল এলাকা আমিরগঞ্জ রেল স্টেশনটি প্রায় দুই বছর যাবত অচল অবস্থায় পড়ে আছে এবং স্টেশন মাস্টারের রুমে তালা লাগিয়ে জানালায় একটি সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে যেখানে লেখা রয়েছে ‘নোটিশ আমিরগঞ্জ স্টেশন বন্ধ”। স্টেশনমাস্টার না থাকায় ও লুপ লাইনের সিগন্যাল মোটর চুরি হওয়ায় দুই বছরেও সচল হয়নি আমিরগঞ্জ রেলস্টেশনটি।

স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের দুই পাশের রেললাইনের উপর স্তুপাকারে ময়লার বস্তা পড়ে রয়েছে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে রেললাইনের লোহা, বিভিন্ন বনে ঢেকে গেছে দু’পাশের রেললাইন। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল সড়ক পথ হিসেবে আমিরগঞ্জ রেলস্টেশনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ। এ স্টেশনটি থেকে প্রতিদিনই আমিরগঞ্জ, চর-আড়ালিয়া, নিলক্ষা, মির্জানগর, আদিয়াবাদ, ডৌকারচর, হাইরমারা এবং চরসুবুদ্ধি ইউনিয়ন সহ পশ্চিমাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়নের জনগণ রেল পথে যাতায়াত করে। আমিরগঞ্জ এলাকাটি একটি শিল্পাঞ্চল ও বানিজ্যিক এলাকা হিসেবেও পরিচিত। স্টেশন মাস্টার না থাকায় স্টেশনে থামছেনা কোনো ট্রেন। ফলে এখানকার ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এছাড়াও ঢাকা, বিমানবন্দর, টঙ্গী, গাজীপুর এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গিয়ে চাকুরীজীবীরাও ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে এ স্টেশন থেকে। সরেজমিনে গিয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্টেশন মাস্টার না থাকার কারণে স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। এ সুযোগে ২০২২ সালের ৩১ জুলাই এবং ১ আগস্ট তারিখে আমিরগঞ্জ রেল স্টেশনের পশ্চিমের ২৪/এ, ২৪/বি এবং ২২/এবি লুপ লাইনের তিনটি সিগন্যাল লাইনের মোটর চুরি হয় এবং এর আগেও একই স্টেশনের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তের আরও চারটি মোটর চুরির ঘটনা ঘটে।

স্টেশন মাস্টার ও সিগন্যাল মোটর না থাকায় সিগনাল বাতিগুলো জ্বলছে না। যার ফলে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনায় অনেকে মারা গেছে এবং পঙ্গুত্ববরণ করেছে। এছাড়া স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেওয়া ট্রেনগুলো প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন লাইনে না দাঁড়িয়ে মাঝখানের লাইনে ট্রেন যাত্রাবিরতি দেয়, তাও আবার মাত্র এক মিনিটের জন্য। এতে করে যাত্রীদের উঠানামা করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অসুস্থ, বৃদ্ধ, শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকরা যাত্রীগণ এই স্টেশন হতে ট্রেনে উঠতে পারছে না। বহুসংখ্যক যাত্রী ট্রেনে উঠতে-নামতে গিয়ে আহত হচ্ছে। স্টেশনের কয়েকজন যাত্রী বলেন, দীর্ঘদিন স্টেশনটি মাস্টার না থাকায় ট্রেনের অবস্থান জানা যাচ্ছেনা। এবং ট্রেনের কোনো আসন পাওয়া যাচ্ছেনা। দাড়িয়ে থেকে ঢাকায় যেতে হয়। স্টেশনে শুধু তিতাস কমিউটার ট্রেন সকালে এবং বিকালে আসে। এটিও সঠিক সময়ে এখানে আসে না। অনেক যাত্রী আবার এখান থেকে সড়ক পথে নরসিংদী গিয়ে সিটের জন্য দাড়িয়ে থাকে।
এব্যাপারে হাসনাবাদ এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক এম আর মামুন বলেন, এ স্টেশনে দীর্ঘ দিন যাবৎ স্টেশন মাস্টার নেই। ট্রেনগুলো যাত্রাবিরতি দিচ্ছে মাঝখানের রেললাইনে। তাও আবার মাত্র ৪৫ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিটের মত। এছাড়া স্টেশনে ট্রেন ঢুকার জন্য যে সিগন্যাল লাইট ব্যবহার করা হয়, সেগুলো জ্বলছেনা, যার ফলে অনেকেই রেললাইন পাড়াপাড়ের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হাড়িয়েছেন।

এব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন। নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার মোঃ মুছা সাংবাদিকদের জানান, নরসিংদীর মধ্যে শুধু আমিরগঞ্জই নয়, রেলের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪০টি স্টেশনে স্টেশন মাস্টারের অভাবে স্টেশনগুলো বন্ধ রয়েছে। অতি শিঘ্রই মাস্টার নিয়োগ এবং লোকবল সংকট দূর করে স্টেশনগুলো চালু করা অতিব জরুরী।
এন’নস/এমনআ/আজিজুল
Leave a Reply