
নিজস্ব প্রতিবেদক : মৃত্যু অবধারিত সত্য। জন্ম নেওয়া সকলকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। তাইতো কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছেন ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে’। তারপরও স্বাভাবিক কিছু মৃত্যু আছে যেগুলো স্বজনদের কাঁদায়। আবার দুর্ঘটনাবশত অনাকাঙ্খিত কিছু মৃত্যু আছে যা কাঁদায় গোটা দেশ ও মানবজাতীকে। মৃত্যুর আবার কয়েকটি ধরন ও হয়। কার মৃত্যু কিভাবো ঘটলো তার উপর ভিত্তি করে কাজ করে মানুষের ইমোশন। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে বেশ কয়েকটি ঘটনা ও দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন কারণে প্রাণ গেছে তাদের। সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে এমন অনেক মৃত্যুর খবর। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় ও বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণ ঝড়েছে সড়কে। শুধু মাত্র সড়কেই নয় সাম্প্রতিক সময়ে রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরোদেশ শুনেছে পুড়ে মারা যাওয়ার আগে মানুষের কত ভয়ানক আর্তনাদ। গাজীপুরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে অনেকের, লঞ্চের রশি ছিঁড়ে নির্দোশ মানুষগুলোর মৃত্যু কাঁদিয়েছে দেশকে। ঈদের শপিং করতে ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে বসে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় মৃত্যু, সুন্নতে খৎনার সময় এনেস্থিসিয়ার প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে শিশুদের মৃত্যুও দেখলো দেশবাসী, গাজীপুরে মাদকাসক্ত সন্তানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ পিতার কুড়ালের আঘাতে সন্তানের মৃত্যু আর রাজধানীর মিরপুরে হাতির আক্রমণে চিড়িয়াখানায় মাহুতের ছেলের মৃত্যু ও কৃষকের মৃত্যু দেখলো চট্টগ্রামের চন্দনাইশবাসী।
অনেক পরিকল্পিত ও অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর খবরে ব্যাথিত ও আতঙ্কিত হয়েছে নরসিংদী জেলাবাসী। রায়পুরার চর মরজালে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু, একই ইউনিয়নের ব্রাহ্মনেরটেকর এলাকায় মৃত্যু আবার মসজিদে ঢুকে মুসল্লীদের বিরক্ত করায় শিশুকে থাপ্পর দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের সংঘর্ষে মসজিদ কমিটির সভাপতির মৃত্যু আতঙ্কিত করেছে মরজালবাসীকে। সম্প্রতি নরসিংদীতে জীবিত কৈ মাছ গলায় আটকে মারা গেছেন একজন। এছাড়াও নরসিংদী সদরের আমদিয়া ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা, রায়পুরায় গরুচোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, রায়পুরার নিলক্ষায় স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে নিহত হওয়ার খবর শুনতে হয়েছে রায়পুরাবাসীকে।
ভাবতে হবে মৃত্যুর আরো কত পথ আছে! পরিবারের ভরণ পোষনে ব্যর্থ পিতা আর ঋণে জর্জরিত ব্যাক্তির আত্ম হনন যেকারো হৃদয়কে নাড়িয়ে তুলবে। হঠাৎ রেগে যাওয়া পিতার নিষ্ঠুরতায় সন্তানের মৃত্যু। ভাইয়ের আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যু, ছেলের আঘাতে পিতার মৃত্যু, বিভিন্ন সময়ে ট্রেন ও বাসে আগুনে মৃত্যু, গরমে বেকে যাওয়া রেল লাইন এবং ভুল সিগনালের কারণে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু, কাজ করতে গিয়ে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে মৃত্যু, স্বজনদের মৃত্যুর খবরে মারা যাচ্ছেন অনেকেই, মায়ের লাশ দেখতে এসে মৃত্যু, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষে প্রায়ই ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা, বিদ্যুতের খুটির নিচে পড়ে মৃত্যু, গাড়ির উপর ক্রেন উল্টে পড়ে মৃত্যু সহ অহরহ মৃত্যুর খবরের স্বাক্ষী হচ্ছে দেশবাসী। বিষ পানে আত্মহত্যা ও গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার খবর শুনেননি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। আবার দেশে মহামারির প্রভাব, প্রাকৃতিক দুযোর্গের কারনেও মৃত্যু মিছিলে যোগদিচ্ছেন অনেকে। আরো বিভিন্ন ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যু মানব সভ্যতাকে আঘাত করে প্রতিনিয়িত।
বর্তমান সময়ের সড়কগুলো তৈরী হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। এরমধ্যে সম্প্রতি সময়ের সড়কে ২টি বড় দুর্ঘটনা মানুষের মনে থেকে যাবে আজীবন। গেলো সোমবার ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের কানাইপুরে বাসের সঙ্গে যাত্রীবোঝাই পিকআপের সংঘর্ষে একই পরিবারের ৪ সদস্য সহ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর একদিন পর অর্থাৎ বুধবার ঝালকাঠির গাবখান সেতুর টোলপ্লাজায় দ্রুতগতির একটি ট্রাক পিষে দিলো কয়েকটি যানবাহন। সেখানেও ঝড়লো ১৪ প্রাণ। সড়কে একের পর এক ভয়াবহ মৃত্যুর খবর এ শহরের মানুষদের এখন নিয়মিত সংবাদে পরিণত হয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথিরিটি (বিআরটি) এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চলতি বছরের শুধু মার্চ মাসেই দেশে ৬২৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এন’নস/এমনআ/আজিজুল
Leave a Reply