
শাহরিয়ার ইমন, নরসিংদী: নরসিংদীর রায়পুরায় ১০ বছরের এক কিশোরীকে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনায় থানায় ধর্ষণের চেষ্টা মামলা দায়ের হয়েছে।
গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রায়পুরা থানায় এ মামলা দায়ের হয়। মামলা দায়েরের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। নেটিজেনরা বলছে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষণের চেষ্টা মামলা নেওয়া এবং দরবারি লোকজন টাকার বিনিময়ে গোপন দফারফা করে চরম বেআইনী কাজ করেছেন। সেই সকল দরবারিদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানায় তারা।
রফিকুল ইসলাম নামে একজন তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন, “মেডিকেল রিপোর্ট বলছে ধর্ষণ, পুলিশ মামলা নিলো ধর্ষণের চেষ্টা”, আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষণের মামলা নিবেন এবং আসামি গ্রেপ্তার করবেন। তা না হলে আগামীকাল দুপুর ১২ টায় থানা ঘেরাও দিবে রায়পুরাবাসী। কথা ক্লিয়ার…
মহসিন খন্দকার নামে এক শিক্ষক লিখেছেন, ধর্ষকের অন্য কোনো পরিচয় নেই। সে ধর্ষক এটাই তার পরিচয়।
টাকার বিনিময়ে গোপন দফারফা করে একটি শিশুর জীবন/ভবিষ্যৎ বিক্রি চরম বেআইনী কাজ।
আর.এস রুবেল আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, রায়পুরা মানুষ এখনো চুপ কেন? যারা তিন লাখ টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের বিচার মাটি চাপা দিতেছে, তাদেরকে আগে বিচার করা হোক। মো. কামাল হোসেন নামে একজন লিখেছেন, ধর্ষক কোন দলের হতে পারে না। সে যেই দলের ই হোক তাহার কঠিন বিচার হওয়া উচিৎ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, টাকায় রফাদফার গ্রাম্য শালিশীর জনক সাবেক মেয়র কুদ্দুস, সাবেক ভুট্টো কমিশনার ও চান্দের কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন খোনকার মিতুল৷ থানায় এসে তাদের নাম প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর মা।
এরআগে গত ২৪ এপ্রিল রাতে জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্রাসার মুহতামিম্ হাফেজ মাওলানা জুনায়েদ আহামদ মাদ্রাসার ভিতর ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে ১ দিন পর বিষয়টি জানাজানির হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বেশকিছু বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করে। এসময় উত্তেজিত জনগন তাদের কথা না মেনে মাদ্রাসাটিতে ভাংচুর করে। পরে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনা জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে ভুক্তভোগীদের থানায় এসে মামলা করার পরামর্শ দেয়।
পরদিন (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর মা বাদি হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক জুনায়েদকে প্রধান আসামী করে একটি ধর্ষণের চেষ্টা মামলা দায়ের করে। ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ৫০ ঘন্টা এবং মামলা দায়েরের ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ। এদিকে ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর মায়ের অভিযোগ মামলার এজাহার না দেখিয়েই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পুলিশ টাকার বিনিময়ে ধর্ষণকে ধর্ষণের চেষ্টা ঘটনা বলে মামলা নিয়েছেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ভিকটিম অভিযোগ বাহির থেকে লিখিয়ে নিয়ে থানায় আসে এবং তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী আমরা মামলা নিই। পরে নারী-শিশু আইনের ২২ ধারা মোতাবেক আদালতে তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। তারা আমাদের কাছে যেই জবানবন্দি দিয়েছে সেই একই জবানবন্দী আরে আদালতেও দেয়। পরে আজ সকালে তারা আবার থানায় এসে ধর্ষণ হয়েছে বলে জানায়। এটা জানার পর আমরা আবার ভিকটিমকে মেডিকেল করার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠাই। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত আসামি গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় নি। আমরা আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আইনের ২২ ধারা মোতাবেক আদালতে তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। তারা আমাদের কাছে যেই জবানবন্দি দিয়েছে সেই একই জবানবন্দী আরে আদালতেও দেয়। পরে আজ সকালে তারা আবার থানায় এসে ধর্ষণ হয়েছে বলে জানায়। এটা জানার পর আমরা আবার ভিকটিমকে মেডিকেল করার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠাই। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত আসামি গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় নি। আমরা আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহতব্যাহত আছে।
Leave a Reply