
এম নূরউদ্দিন আহমেদ : ১০ডিসেম্বর নরসিংদীর রায়পুরা হানাদার মুক্ত দিবস, এই দিনে ১৯৭১ সালে ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা রায়পুরাকে মুক্ত করেছিল।
ঐতিহাসিক হানাদার মুক্ত দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও নানা আয়োজনে পালন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বুধবার সকাল নয়টায় রায়পুরা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে জাতীয় পতাকা ও ব্যানার-ফেস্টুন হাতে বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়। র্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও হাজারো সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র্যালী শেষে উপজেলা মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা মুক্তি যোদ্ধা কামান্ডের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহসম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হযরত আলী ভূইয়া, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মহব্বত আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মানিক মিয়া ভেন্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আল-মামুন, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস আলী মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলফাজ উদ্দিন মিঠু, সদস্য সচিব নূর আহমেদ চৌধুরী মানিক প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে রায়পুরা হানাদার মুক্ত হয়েছিল—যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে রায়পুরার বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, তা আজও গৌরবের স্মৃতি হয়ে রয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতা কোনো দিনের অর্জন নয়—একটি দীর্ঘ সংগ্রাম ও অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের ফসল। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে আরও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ নাগরিক গড়ে তুললেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।আলোচনা সভায় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করা হয়।
পরে দেশের গান পরিবেশ করেন বিয়াম শিল্পকলা একাডেমি। দিনব্যাপী এই আয়োজন রায়পুরাবাসীর মাঝে স্বাধীনতার চেতনা ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে। পুরো উপজেলা জুড়ে হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
Leave a Reply