নরসিংদী সংবাদদাতা: নরসিংদীর রায়পুরায় গৃহবধূ সাদিয়া হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রায়পুরা উপজেলার বাশঁগাড়ি ইউনিয়নের বটতলী কান্দি এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে নিহত সাদিয়ার বাবা বকুল মিয়া, স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাদিয়ার বাবা বকুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সাদিয়ার দেবর মোস্তফা তার ভাবী শামসুন্নাহারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। এ সম্পর্কের কিছু তথ্য সাদিয়ার মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে সাদিয়া সেই তথ্য তার প্রবাসী স্বামীর কাছে পৌঁছে দিলে মোস্তফা ও শামসুন্নাহার তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সাদিয়ার স্বর্ণালংকার নিয়ে বিরোধ ছিল এবং তা দিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে প্রায়ই চাপ ও হুমকি দেওয়া হতো।
বকুল মিয়ার অভিযোগ, এসব ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার মেয়ে সাদিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাদিয়ার শাশুড়ি, দেবর মোস্তফা এবং ভাসুরের স্ত্রী শামসুন্নাহারকে দায়ী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ৩১ মে সন্ধ্যায় সাদিয়ার চাচা শ্বশুর মোবাইল ফোনে তাদের জানান যে সাদিয়া স্ট্রোক করেছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, সাদিয়া ঘরের মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। এ সময় শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাউকেই সেখানে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে পরিবারের লোকজন দ্রুত সাদিয়াকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাদিয়ার পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এননস/এমনআ/শাহনেওয়াজ